Description
দারুল উলূম থেকে এতিমখানা লিল্লাহ বোডিং বই সম্পর্কে আলোকপাত:
একটুখানি পড়ে দেখুন ⬎

আকাবিরে দেওবন্দের উপর আরোপিত আপত্তির জবাব সিরিজ – ৩
লেখক : মাওলানা যুবায়ের হোসাইন হাফিঃ
প্রকাশনী : মাকতাবাতুস সিদ্দীক
বিষয় : মুসলিম সভ্যতা
কভার : হার্ডকভার
ভাষা : বাংলা
240৳ Original price was: 240৳ .120৳ Current price is: 120৳ . (50% ছাড়ে)
| No. | Product | Name | Category | MRP | Discount | Action |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 01 |
|
দারুল উলুম দেওবন্দ এর শত্রু মিত্র | মুসলিম সভ্যতা | 360৳ | 50% | Add to Cart |
| 02 |
|
দারুল উলুম দেওবন্দ পূর্বসুরি ও উত্তরসুরি | ইসলামী গবেষণা | 180৳ | 50% | Add to Cart |
| 03 |
|
ফিকহের অব্যবহার ও অপব্যবহার | ইসলামী গবেষণা | 380৳ | 50% | Add to Cart |
দারুল উলূম থেকে এতিমখানা লিল্লাহ বোডিং বই সম্পর্কে আলোকপাত:
দারুল উলূম থেকে এতিমখানা লিল্লাহ বোডিং



মুহাম্মদ সাঈদুর রহমান নাটোরী –
দারুল উলূম থেকে এতিমখানা-লিল্লাহ্ বোর্ডিং বইটি লিখেছেন, মাওলানা যুবায়ের হোসাইন হাফিযাহুল্লাহ্। মলাটের উপর ছোট করে লেখা আছে, আকাবিরে দেওবন্দের উপর আরোপিত আপত্তির জবাব সিরিজ- ৩। বইটি বরাবরের মত মাকতাবাতুস সিদ্দীক থেকে ছাপা হয়েছে। বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৫০
বইটির শুরুতেই সংশোধনী আনা হয়েছে। অর্থাৎ, আকাবির দেওবন্দের উপর আরোপিত আপত্তির জবাব সিরিজ- ২ “দারুল উলূম দেওবন্দ এর শত্রু-মিত্র” বইটিতে দুটি অনাকাংক্ষিত ভুল হয়ে যায়, যা এখানে তুলে ধরা হয়।
বইটিতে কোন ‘ইহদা’ পরিলক্ষিত হলো না। সম্ভবত এর কোন হেকমত রয়েছে। অথবা এমনিই এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। তাছাড়া সকল কিতাবেই ‘ইহদা’ থাকতেই হবে এটা কোন নিয়মও নয়।
বইটির ১১-১৪ পৃষ্ঠায় উক্ত বইয়ের নির্বাচিত কিছু অংশ তুলে ধরা হয়েছে। এরপর ১ পৃষ্ঠায় অতি সংক্ষেপে লেখক কিছু কথা বলেছেন, যা পাঠকের হ্রদয় স্পর্শ করবে আশা করি।
কী আছে বইটিতে?
১। দারুল উলূম ক? দারুল ইলম হচ্ছে, বিদ্যানিকেতন, ইলমের আঙ্গিনা…। শেখা শেখানোর ফরিযা আদায়, ইলমে অহির চর্চাকেন্দ্র…। (১৬-১৭)
২। দারুল উলূম দেওবন্দ কী? দারুল উলূম দেওবন্দ হচ্ছে, ইলমের একটি আঙ্গিনা যত গুণে গুণান্বিত হয়ে থাকে এবং যত বৈশিষ্টের অধিকারী হয়ে জন্ম লাভ করে সেসকল গুণ ও বৈশিষ্টের অধিকারী ইলমের একটি সরোবরের নাম হচ্ছে দারুল উলূম দেওবন্দ। (১৭)
…ঈমাণের সাতাত্তর শাখার প্রত্যেকটি শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব সকল দারুল উলূমের। (১৯)
৩। এতিমখানা কী? (২০-২২০)। চমৎকার আলোচনা। খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার মূল টপিক হলো, এতিমদের জামাতবদ্ধ কোন রুপ ছিলো না। যেমনিভাবে বৃদ্ধদের সেবা-যত্নের সকল আয়োজন ছিলো, ফযিলত ছিলো, কিন্তু বৃদ্ধাশ্রম ছিলো না।
৪। লিল্লাহবোর্ডিং কী? (২২)। লিল্লাহবোর্ডিং হচ্ছে সরাইখানা অথবা ত্রাণ বিতরণকেন্দ্র। আল্লাহর ওয়াস্তে অসহায় মানুষদের অন্নদানকেন্দ্র…।
৫। আসহাবে সুফফা (২৩-২৭)। এখানে আসহাবে সুফ্ফার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। অনেকে আসহাবে সুফফার মাধ্যমে লিল্লাহবোর্ডিং সাব্যস্থ করতে পারেন একারণে। এখানে বড় কথা হচ্ছে, তারা কিন্তু আসহাবুস সুফফাহ। দারল আইতাম বা দারুল মাসাকীন জাতীয় কোন শিরোনাম ছিলো না…। পরিচয় উল্লেখের পর এভাবে আটটি পয়েন্ট তুলে ধরা হয়েছে।
৬। মাদরাসা কী? (২৭)। পার্থিব উপায়-উপকরণের শিক্ষা হোক বা ইসলাম শিক্ষা হোক সর্বাবস্থায় মাদরাসা হচ্ছে একটি শিক্ষালয়। এটা কোন সরাইখানা নয়। এটা কোন লঙ্গর খানা নয়। এটা কোন অনাথ আশ্রম নয় এবং কোন ছিন্নমূল পূনর্বাসনকেন্দ্র নয়…।
৭। দারুল উলূম কেন? (২৮-২৯)। কারণ, নিজেকে মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে চাইলে অবশ্যই তাকে দারুল উলূমে আসতে হবে…।
৮। দ্বীনের ফরয ইলমের ঠিকানা (২৯-৩০)। এ দারুল উলূম হচ্ছে, দ্বীনের ফরয ইলমের ঠিকানা। বাদশা, আমীর, ধনী এবং সকল অমানুষের মানুষ হওয়ার ঠিকানা এই দারুল উলূম…। কিন্তু এই ফরয দায়িত্বের ঠিকানাকেই আজ আমরা লঙ্গরখানা ও অনাথ আশ্রম হিসেবে পরিচয় দিতে খুব আরামবোধ করছি…।
৯। এতিমখানার আসল অর্থ কি এখন বিলুপ্ত? (৩১-৩২)। এখানে ৬টি পয়েন্টে বলা হয়েছে যে, কোন ভাবেই মাদরাসা বা দারুল উলূমের সঙ্গে এতিমখানা বলা বা লেখার কোন সুযোগ নেই।
১০। লিল্লাহবোর্ডিং এর আসল অর্থ কি বিলুপ্ত? (৩২-৩৩)। এরপর লেখক কিছু নমুনা তুলে ধরেছেন, যে ভুলগুলোতে আমরা নিমজ্জিত এবং কিছু বিষয় এমন, যা স্বীকার করি কিন্তু বের হচ্ছি না…।
১১। যানবাহনে লিল্লাহবোর্ডিং এর নামে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন (৩৪-৩৬)। এতে আলোচিত হয়েছে:
ক) তথ্যবিহীন চাঁদার প্রসার, রশিদ থাকে সাথে কিন্তু…। খ) ধর্মপ্রচারের একি হালত? এখানে বলা হয়েছে, চাঁদাবাজরা আগে আখেরাতের বয়ান করে…। গ) জাল ও মিথ্যার পসরা। এখানে বলা হয়েছে, চাঁদাবাজরা অনেক বানোয়াট ও মিথ্যা ঘটনা হাদীস বলে চালিয়ে দেয়…। ঘ) বিকৃত তেলাওয়াত ও তরজমা। ঙ) শরয়ী প্রয়োজন ছাড়া বিরক্তির কারণ।
১২। রাস্তায় মাইক লাগিয়ে, লাল কাপড় টাঙ্গিয়ে, যাত্রীবাহী গাড়ী থামিয়ে লিল্লাহবোর্ডিং এর জন্য টাকা উত্তোলন ৩৮-৪৩। এখানে যা বলা হয়েছে:
ক) শিশুদের জন্য খেয়ানতের দরজা খুলে দেওয়া হচ্ছে। খ) শিশুরা জীবনের শুরুতেই হাত পাতা শিখল…। গ) নিজের সে দেখা ভুলতে পারছি না… একটি ঘটনা। ঙ) এরা যদি এই সময়, মেধা, শ্রমটুকু কাসবে হালালের জন্য ব্যয় করত…। চ) ঐ কথাও মনে পড়ে..। এঘটনাটা খুবই বেদনাদায়ক। ছ) এ অঙ্গটি কেটে ফেলাও মুশকিল।
১৩। উত্তোলনকারীর জন্য শতকরা ৫০-৮০ ভাগ পর্যন্ত বরাদ্দ দিয়ে লিল্লাহবোর্ডিং এর জন্য টাকা উত্তোলন (৪৪-৪৫)। বড় বাস্তব কথা। কিন্তু … শোনে না ধর্মের কাহিনী।
১৪। টাকা যখন বিদেশ থেকে আসে তখন তা কোন প্রকারের টাকা তা তাহকীক করার প্রয়োজনীয়তার শতভাগ বিলুপ্তি (৪৬-৪৮)। এখানকার ঘটনাটি পড়ুন আর পারলে রক্ত কান্না করুন।
১৫। লিল্লাহবোর্ডিং এর খরচে দেশ-বিদেশ সফর করতে গিয়ে নিজের হাজারো প্রয়োজন সেরে নেয়ার প্রকাশ্য মহড়া (৪৯-৫৩)। এখানে যা বলা হয়েছে :
ক) লিল্লাহবোর্ডিং এর জন্য চাঁদা করা যকাতা উসুল কারীর পর্যায়ে মনে করা…। খ) আর যদি এই পর্যায়ের মনে না করা হয়, তাহলে এটা কোন পর্যায়ের মধ্যে মধে পড়ে..। গ) আরেকটি ঘটনা/দুর্ঘটনা।
১৬। লিল্লাহবোর্ডিং এর দানবাক্স (৫৪-৫৭)। এখানে বলা হয়েছে:
ক) লিল্লাহবোর্ডিং এর উপরে বা নীচে লেখা আছে, জামিয়া ফুলানিয়া…। খ) এখন আর দলীলেরও প্রয়োজন নেই, আকাবিরেরও প্রয়োজন নেই। গ) …যদি আকাবির আমাদের এসব উদ্ভাবন দেখতেন, তাহলে তারা খুব পছন্দ করতেন..। ঘ) বিদআতের উদ্ভব এভাবেই হয়েছে। ঙ) দুখ:জনক সারসংক্ষেপ। যাইহোক দারুল উলূম দেওবন্দের পরিচয়দানকারীরা সকল মাদরাসা, জামেয়াকে এতিমখানা ও লিল্লাহবোর্ডিং হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। এর বিনিময়ে আমাদে কপালে কী জুটেছে তাই সামনে বলা হচ্ছে।
১৭। রমযানের শেষ দশদিন (৫৭-৫৮)। এই দশ দিনে কী অর্জন করার কথা ছিলো, আর কী অর্জন হচ্ছে: ক) কাপড় কেনার দোকানে ঢুকতে চেয়েছি তো ‘হুজুর একটু পরে আসেন’ বলে আমাদের কে ঢুকতে দেয়া হয়নি। খ) নাস্তার দোকানে নাস্তা করার জন্য…। গ) অলংকারের দোকানে…।
১৮। আঘাতটা কোথায় করব? (৫৯-৬০)। … দোকানীর উপর নাকি এতিমখানার কর্ণধারদের উপর? ১৯। একটি টিভি টকশোর চিত্র এবং এর উপর বুদ্ধিবৃত্তিক আলাপ (৬০-৬৪)। ২০। একটি দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদন ৬৪-৬৭)। ২১। প্রধানমন্ত্রী বলেছে, তারাও তো মানুষ (৬৮-৬৯)। ২২। এতিমের সংগা (৬৯-৭১২) কুরআন, হাদীস ও ফিক্বহ থেকে। ২৩। কর্তৃপক্ষ এ সংগা জানার সমস্যা ও জানার সমস্যা। ২৪। এতিমখানার সঙ্গে এতিমের সংগার মিল অমিল (৭৩-৭৬)। ২৫। আসল এতিমরা কোথায় (৭৭-৮০) ও একটি কাল্পনিক শিক্ষণীয় ঘটনা। ২৬। এতিমের প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছল কেন যাবে? (৮১)। ২৭। ফাঁক বের করার চেষ্টা না করি (৮৬)।
২৮। ইলমে দ্বীনের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হওয়ার কিছু নমুনা (৮৮-৯১)। এখানে বাস্তব কিছু ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। এক পর্যায়ে বলা হয়েছে, আশ্চরয! সরকারী মাদরাসাকে মানুষ চিনল আলিয়া মাদরাসা হিসেবে আর কওমী মাদরাসাকে জানল এতিমখানা মাদরাসা হিসেবে..। এরপর বলা হয়েছে, দারুল উলূম দেওবন্দ এখনো এ শিরোনাম গ্রহণ করেনি… (৯৪-৯৮)।
২৯। কানা মামা, নাই মামা, শরীয়তে কোন কানা মামা নেই (১০০-১০৩)। এরপর বলা হয়েছে শিরোনাম কওমী মাদরাসা হতে পারতো…।
৩০। পাঠকের আদালতে পাঠকের ভাবনা (১১১-১৫০)। এখানে অনেক পাঠকের ভাবনা এবং তার উত্তর দিতে চেষ্টা করা হয়েছে। অর্থাৎ সিরিজ- ১ ও সিরিজ- ২ এর উপর পাঠ অনুভূতি…। কারো কাছে মনে হবে এটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই অংশটুকু পড়া চাই, তাহলে আমরা বুঝতে পারবো, ইশকালকারীদের কথাগুলো কি আসলেই কোন ইশকাল? নাকি মনে যা আসল, তিরস্কার ভৎসনা আর গালাগালি করে দিল।
সবশেষে বইটির ১২৭ পৃষ্ঠা থেকে একটি ঘটনা উল্লেখ করছি, যাতে আমাদের জন্য না বলা অনেক শিক্ষা রয়েছে। সুতরাং ঘটনাটি পড়ুন আর ভাবতে থাকুন,
حَدَّثَنَا عبد الرزاق، قال: شهدت أبا حنيفة في مسجد الخيف، فسأله رجل عن شيء، فأجابه، فقال رجل: إن الحسن يقول: كذا، وكذا، قال أَبُو حنيفة: أخطأ الحسن، قال: فجاء رجل مغطى الوجه قد عصب على وجهه، فقال: أنت تقول: أخطأ الحسن يابن الزانية، ثم مضى، فما تغير وجهه ولا تلون، ثم قال: إي والله، أخطأ الحسن وأصاب بن مسعود. (تاريخ بغداد 15/473، الشاملة)
মন্তব্য :
১। ভাষাগত সৌন্দর্যতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন জায়াগাতে অসংখ্য তামছীল, যা পাঠ কে প্রাণবন্ত করে তুলেছে আলহামদুলিল্লাহ্।
২। বইটি পড়ে বুঝে এসেছে ইমাম জাহেয রহ. এর সেই বিখ্যাত কথা إذا نكح الفكر الحظ ولد العجائب । বইটি লিখতে লেখককে প্রচুর ফিকির করতে হয়েছে।
৩। বিষয়গুলো কেউ হঠাৎ পড়লে ভাববে, এগুলোও লেখার জিনিস? কিন্তু জনাব! বিষয়টা আমি ভেবে দেখলাম এবং নিশ্চিত হলাম যে, এগুলো না লিখলে সংশোধনের আর কোন পথ আছে বলে আমার মনে হয় না। অনেকেই ঘরোয়া ভাবে এগুলো অপছন্দ করেন, বলে থাকেন। কিন্তু শুধরানোর কোন ফিকির নেই। যখন লিখিত সামনে পাবে, তখন অবশ্যই ভাবার ফুরসতটুকু পাবেন ইনশাআল্লাহ্। আর লেখক যেহেতু দিলের তরপ ও ব্যথা নিয়ে লিখেছেন, আশা করি এর প্রভাব পাঠকের দিল পর্যন্ত পৌঁছবে ইনশাআল্লাহ্।
৪। অনেকেই অনেক সময় প্রকাশভঙ্গি নিয়ে আপত্তি করেন। আমার কাছে আপত্তি করার মত তেমন জটিল কিছু মনে হলো না। কারো কাছে এমনটা লাগতে পারে। তাদের উদ্দেশ্যে কথা হলো, আপনি মুল মযমূন ও আবেদনটুকু নেয়ার চেষ্টা করুন। কথা যদি হক হয় এবং শরযী উসূল মুতাবেক হয়, তাহলে হক তলবী হলে আশা করি বর্জন করতে পারবেন না