Description
তাফসীরে সূরা তাওবা কিতাব সম্পর্কে আলোকপাত:
বক্ষমাণ গ্রন্থটি তাফসীর গ্রন্থ নয়। শহীদ ড. আল্লামা আব্দুল্লাহ আযযাম রহ. এর বক্তৃতামালার সংকলন গ্রন্থ। কিন্তু তাহলে কী হবে। বহু তাফসীর গ্রন্থের মাঝে তা আজ অনন্য। অতুলনীয়। স্বীয় মহিমায় ভাস্বর। অভিজ্ঞতার বর্ণনায় দীপ্তিময়, উদ্ভাসিত। একেবারে বিরল। বর্তমান সময়ে এ ধরনের গ্রন্থ কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না।
কারণ, আফগান রণাঙ্গনে ইসলামের দুশমনদের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ ব্যুহ রচিত হয়েছিল তা ছিল প্রকৃত জিহাদ। যারা জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন তারা ছিলেন প্রকৃত মুজাহিদ। বহু ঘটনা, অলৌকিক কাহিনী তার উজ্জ্বল নিদর্শন। সেই মুজাহিদদের মাঝে যিনি শিক্ষা-দীক্ষায় ছিলেন স্বনামধন্য। যার খ্যাতি ছিল দুনিয়াজোড়া; যিনি ইখলাস ও লিল্লহিয়্যাতের ছিলেন প্রজ্জোল উপমা: তিনি যখন প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেন; গোটা আফগানিস্তান চষে ফিরলেন; স্বচক্ষে দেখলেন রণাঙ্গনের সবকিছু; এর আগেও যিনি ফিলিস্তিনের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
সেখানকার মুজাহিদদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন; তাঁর জন্য অনেক কিছু বোঝা, অনুভব করা, উপলব্ধি করা অত্যন্ত সহজ ছিল, যা অন্য কারো জন্য সম্ভব ছিল না। তাঁর সেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার উজ্জ্বল আলোকমালাই তিনি বক্তৃতার পরতে পরতে রেখে গেছেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য যা বর্তমান সময়ে কেউ রেখে যেতে পারেনি। তাই এ গ্রন্থটি একটি উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। যা যুগ যুগ ধরে আলোর মশাল নিয়ে দিশেহারা পথভ্রষ্ট সমাজকে সত্য ও ন্যায়ের দিশা দিবে। হিদায়াতের উজ্জ্বল আলোকিত পথ দেখাবে।
আমাদের দেশে মুসলমানের সংখ্যা বেশি। অনেক বেশি। আমরা গর্ব বোধ করি। কিন্তু অজ্ঞতাও বেশি। অনেক অনেক বেশি। যা চিন্তা করলে লজ্জায় মুখ মলিন হয়ে যায়। তাই আমাদের কর্ণধার শ্রেণীর লোকেরাও জিহাদ আর সন্ত্রাসের মাঝে পার্থক্য করতে পারে না। তারা মুজাহিদদের সন্ত্রাসী বলে ঈমান হারায়। জিহাদ সম্পর্কে কটুক্তি করে বেঈমান হয়। অথচ এর অনুভূতিও তাদের নেই।
এহেন পরিস্থিতিতে জিহাদ কী? জিহাদ কী চায়? কেন প্রত্যেক মুসলমানকে মুজাহিদ হতে হবে? কারা জিহাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে? কিভাবে করছে? কেন পাশ্চাত্য জগত জিহাদকে ভয় পায়? কেন মুজাহিদকে সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করে? আর জিহাদকে সন্ত্রাস বলে? এ ধরনের হাজারো বিচিত্র প্রশ্নের সাবলীল সুন্দর যুক্তিপূর্ণ সমাধান এ গ্রন্থের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে আছে। ছড়িয়ে আছে সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন ও আকাবিরে উম্মতের বহু বিরল ঘটনাবলী। যা হৃদয়কে বিগলিত করে। চিন্তাজগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে। সঠিক চিন্তা ও চেতনায় টইটম্বুর হয় হৃদয়। জেগে উঠে ঘুমন্ত নির্জীব প্রাণ।
তাই এ গ্রন্থটি এক অনন্য গ্রন্থ। বিরল গ্রন্থ। জাগো মুজাহিদ ও রহমত পত্রিকায় এর অনুবাদ প্রকাশকালে সুবিজ্ঞ পাঠক মহলের অনুভূতি, মতামত ও আবেগ-উচ্ছ্বাসের বহিঃপ্রকাশই তার প্রমাণ।
হাজারো বাধার বিন্ধ্যাচল পেরিয়ে গ্রন্থাকারে যখন তা প্রকাশিত হতে যাচ্ছে তখন অনেকের কথাই মানসপটে ভেসে উঠছে। আমি সবাইকে শুকরিয়া জানাই। সবার নিকট দু’আ চাই। আমিও দু’আ করি যেন আল্লাহ এ শ্রমকে কবুল করেন। আমাদের নাজাতের উসীলা বানান।
আমীন….. ছুম্মা আমীন…







Abdur Rahman –
বইটা পড়েছিলাম ২০২৩ সালে। শায়েখ রহ. এর এই বইটি অত্যন্ত চমৎকার