Description
অবাধ্যতার ইতিহাস বই সম্পর্কে লেখক আরিফ আজাদের অভিব্যক্তি:
ধর্মকে অজ্ঞতা আর পশ্চাদপদতা জ্ঞান করা ইউরোপে ইসলাম আবির্ভূত হয়েছিল নতুন এক জাগরণের দিশা হয়ে। চার্চকে সভ্যতার বিকাশে অন্তরায় মনে করা মানুষদের সামনে আল্লাহর মনোনীত ধর্ম হয়ে উঠেছিল এক নতুন পৃথিবীর দীপ্ত ইশতেহার। স্বাধীনতা আর মানবতার মোড়কে সমাজে কতটা বিকৃতি যে ছড়িয়ে পড়েছিল তা ইসলাম আঙুল তুলে দেখাতে লাগল একে একে। চার্চ আর বিজ্ঞানবাদের লড়াইয়ে যখন উদ্ভাবিত হচ্ছিলো মানববাদ, নারীবাদ এবং বিস্তৃতি পাচ্ছিল সমকামের মতো অ-প্রাকৃতিক আচরণ, মানুষকে আলো দেখাতে তখন ইসলাম হাজির হলো তার সমাধানের সমাহার নিয়ে।
বিনি সুতোর মালা কেটে গেলে যেভাবে মুক্তোদানা ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায়, ধর্মীয় বিধানের বিকৃতিও তেমনি মানবসভ্যতাকে করে তোলে অস্থিতিশীল, অসহনীয়। ভুল জিনিস আর ভুল বিশ্বাসে অভ্যন্ত মানুষের জন্য ইসলাম কীভাবে সমাধান বাতলায়, ধর্মকে আস্তাকুঁড়ে পাঠানোর দুনিয়ায় ইসলাম কেন সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক, সেই আলোচনায় ভরপুর ‘ অবাধ্যতার ইতিহাস ‘ বইটি।
ডা. শামসুল আরেফীন তার চমৎকার সব কাজ দিয়ে এই উম্মাহকে উপকৃত করছেন, আলহামদুলিল্লাহ। বরাবরের মতো তার এই কাজটিও বাংলাভাষী মানুষের চিন্তার জগতে বৃহৎ পরিবর্তন আনবে কায়মনোবাক্যে এই প্রার্থনা।







হাসান –
এটাকে একদম কমপ্লিট প্যাকেজ বলা যায়। আরো সহজে বললে “একের ভেতর সব” বাক্যটিও ব্যবহার করা যায়। বইটাতে বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিষয় আনা হয়েছে। যেখানে আছে, খ্রিষ্টধর্মের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস।
এরপর চার্চের অনাচার-অত্যাচার। রাজ্য ও চার্চের দ্বন্দ্ব। শেষ পর্যন্ত রেনেসাঁ, রিফর্মেশন, এনলাইটেনমেন্ট নিয়ে আলোকপাত।
পাশাপাশি মুসলিম বিশ্ব এই সময়টাতে কেমন ছিল, তাদের কি ছিল আর কি ছিল না, সেটাও উল্লেখ করা হয়েছে। মুসলমানরা কেন তাদের ধর্ম ও শরীয়াহ শাসন থেকে দূরে সরে গেল? কি কি ভুল ছিল? আধুনিকতার আসল উৎস কি?
এসব নিয়েও বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে। শেষে গুরুত্বপূর্ণ দুইটা বিষয় আনা হয়েছে। এক, ধর্মনিরক্ষেতা বা সেক্যুলারিজম।
কিভাবে এটি রাষ্ট্র, ক্যারিয়ার, পরিবার ও নিজের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে? পুঁজিবাদ, বক্রতা, অশ্লীলতা কিভাবে ছড়িয়েছে? আর পাশ্চাত্য সমাজে ইসলাম কিভাবে আছে? এই বিষয়গুলো। দুই, ঈমান-কুফরের দ্বন্দ্ব। এর সীমারেখা ও জরুরিয়্যত নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এটা অবশ্যই প্রত্যেক বুঝমান মুসলিমের পাঠ করা উচিৎ।