শহীদ ইয়াহইয়া ইবরাহিম আস সিনওয়ার ১৯৬২ সালের ২৯ অক্টোবর গাযযার খান ইউনুস শরণার্থী শিবিরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবার ১৯৪৮ সালে মাজদাল আসকালান থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে সেখানে আশ্রয় নেয়। গাযযা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক সম্পন্ন করার সময় তিনি শাইখ আহমাদ ইয়াসিনের সংস্পর্শে এসে ইসলামী আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন।
ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তিনি বন্ধুদের নিয়ে গোপনে মসজিদ নির্মাণে ভূমিকা রাখেন। ১৯৮৬ সালে তিনি ‘মাজদ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন, যার লক্ষ্য ছিল ইসরাইলি এজেন্টদের চিহ্নিত করা। ১৯৮৮ সালে গ্রেফতার হয়ে তিনি চারবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হন। দীর্ঘ ২৩ বছরের কারাজীবনে তিনি হিব্রু ভাষা শেখা, গ্রন্থ রচনা ও তরুণদের প্রশিক্ষণের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। ২০১১ সালে বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় তিনি মুক্তি পান।
মুক্তির পর তিনি হামাসের রাজনৈতিক ও সামরিক শাখায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ ও ২০২১ সালে গাযযায় হামাসের প্রধান এবং ২০২৪ সালে ইসমাইল হানিয়ার শাহাদাতের পর তিনি পুরো সংগঠনের রাজনৈতিক প্রধান হন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ‘তুফান আলআকসা’ অভিযানের অন্যতম রূপকার ছিলেন তিনি। ইসরাইল তার বাড়ি তিনবার ধ্বংস করে এবং তাকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি সবসময় শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করতেন।
তার দুই ভাই ড. জাকারিয়া আস সিনওয়ার ও মুহাম্মাদ আস সিনওয়ারও ইসরাইলি হামলায় শহীদ হয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সালিহা আবু যুমারকে বিয়ে করেন এবং তাদের তিন সন্তান রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে জিহাদরত অবস্থায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন।