Description
আল্লাহর পথের ঠিকানা বই সম্পর্কে আলোকপাত:
গত শতাব্দীর সবচে’ প্রভাবশালী আলিমদের একজন শায়খ আবুল হাসান আলী নাদভী রাহিমাহুল্লাহ। তাঁর সবচে’ বড় একটি গুণ হচ্ছে চিন্তার স্বচ্ছতা। তিনি চমৎকারভাবে ভাবতে পারতেন, ভাবাতে পারতেন। সহজ সরলভাবে তাত্পর্যপূর্ণ সব কথাবার্তা বলে এবং লিখে গেছেন। ‘আল্লাহর পথের ঠিকানা’ লেখকের ‘তা’মীরে ইনসানিয়াত’ উর্দু ভাষণ সংকলনের অনুবাদ। মানবতাবোধ, মানুষের হাকীকত ও তার তাৎপর্য তুলে ধরতে শায়খ যে দাওয়াতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাতে দেয়া দশটি ভাষণ স্থান পেয়েছে।
এ গ্রন্থটিতে যা তিনি গত শতাব্দীর মাঝামাঝি দিয়েছিলেন।মানুষ এখন অনেক কম সময়ে অনেক বেশি কাজ করতে পারছে। উপাদানে ভরপুর চারপাশ। এই যাত্রা গত শতাব্দী থেকেই শুরু হয়েছে একটু দ্রুতগতিতে যা আজকে পূর্ণতা পেতে চলছে ! উপকারিতা আর অপকারিতা দুইই মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। সম্পদের আধিক্য যার বেশি তাঁকেই সুখি ভাবা হচ্ছে আর সম্পদ অর্জনকেই জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ হিসেবে মানুষ বেছে নিয়েছে।
বস্তুবাদের খপ্পরে পড়ে সঠিক চিন্তা পর্যন্ত করতে পারছেনা মানুষ। অতিসন্তর্পনে মানব মস্তিষ্ক ধোলাই হয়েছে বস্তুবাদ দ্বারা। বিবেক তো হূদয়ের অন্ধকারাচ্ছন্নতা দেখে বহু আগে ঘুমিয়ে পড়েছে। শায়খ তার ভাষণগুলোতে হূদয়ের উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছেন। মানবতার এই অধঃপতন যা পৃথিবীকে ইনসাফের পরিবর্তে জুলুম দ্বারা পূর্ণ করে দিচ্ছে এর বিপক্ষে যে দায়ী তাকে চিহ্নিত করে সমালোচনা করেছেন, সমাধান দিয়েছেন।
শায়খ তাঁর ভাষণে, মানুষের সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে কথা বলেছেন। এই মানবতা যা বাবাকে বাবার সম্মান, মাকে মার সম্মান, পরিবারকে আস্থাশীল সংগঠন হিসেবে দেখাতে অকৃতকার্য ; সর্বোপরি মানবতার চরম অধঃপতন যা দুইটি বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত ঘটিয়ে দিল এবং সেই মানুষগুলোর নির্ধারিত সংশোধন পন্থার ফলাফল দেখিয়ে দিয়েছেন। তাদের দাবি ছিল মানুষ অভাবে স্বভাব নষ্ট করেছে। পেটভরে খাদ্য দেয়ার ফলে পাপ আরো বেড়েছে বৈ কমেনি। সংগঠনকে এই মানবতার সংশোধনের সহায়ক ভাবা হয়েছিল, ফলাফলঃ আগে যা একা করা হতো তখন দলবদ্ধভাবে করা হলো।
এইভাবে তাঁদের প্রত্যেকটা নিয়ামক শায়খ ব্যর্থ বলে চূড়ান্ত এবং শতভাগ কার্যকর একটি দাওয়াত দেন যা এই বস্তুবাদকে পিছনে ফেলে মানবতার জন্যে একান্তভাবে কাজ করে যাবে। এবং বিধ্বস্ত মানবতা তার প্রকৃত সম্মান খুঁজে পাবে। শায়খ আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের আগমনের কারণ এখানে ব্যাখ্যা করেন এবং তাঁদের দেয়া ঐশী নির্দেশনা মেনে নেয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। শায়খ আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের কর্মকাণ্ডের মূলনীতি পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা কীভাবে মানুষের হূদয় বানাতেন, মানসিকতা গড়তেন তা ব্যাখ্যা করেছেন। পক্ষান্তরে ইউরোপ আমেরিকার যারা এই মানবতার প্রতি খুবই ‘দরদী’ তাঁদের কর্মকাণ্ডের বস্তুনিষ্ঠভাবে সমালোচনা করেছেন।
তাদের কর্মকাণ্ডের প্রতি আফসোস করে শায়খ বলেন, মানুষ ! তুমি পৃথিবীকে ক্লাব বানিয়েছ, টাকশাল বানিয়েছে, কারখানা বানিয়েছ, যুদ্ধের ময়দান বানিয়েছ, কিন্তু মানুষের বসতি বানাতে পারো নি !শায়খ এই গ্রন্থে বস্তুবাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। তা কতটা বিধ্বংসী তার প্রকৃত রূপ কী তা ব্যাখ্যা করেছেন। বলা যায় খতিয়ান টেনেছেন। আলোচনা করেছেন সংশোধনের প্রকৃত পদ্ধতি নিয়ে। বিধ্বস্ত এই মানবতা কিভাবে মনুষ্যত্ব বিনির্মাণের অগ্রপথিক হবে তার পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। ব্যক্তি সংশোধনের প্রতি তাগিদ দিয়েছেন।
শায়খের এই বার্তা ছিল সুন্দর পৃথিবী গঠন এবং স্বাধীন জন্ম নেয়া একজন মানুষ স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার জন্যে। শায়খ তৎকালীন সময়ে প্রবৃত্তিকে গুরুত্ব না দিয়ে ঐশী নির্দেশনার প্রতি মাথানত করার যে আহ্বান জানিয়েছেন তা আজও পালনীয়। দেশে দেশে ঠান্ডা লড়াই, জাতীয়তাবাদী চেতনা তার ওপর বস্তুবাদের আধিপত্য বেড়েই চলেছে। এই গ্রন্থ এতসবের ভিতরে বাস করা একজন মানুষকে স্বচ্ছ চিন্তাভাবনা করতে সাহায্য করবে। প্রকৃতপক্ষেই আল্লাহর পথের ঠিকানার সন্ধান দিবে।







Reviews
There are no reviews yet