Description
গুজারিশ বই সম্পর্কে আলোকপাত:
মানুষের জীবনে, স্মৃতিতে এমনও কোনো ঘটনা থাকে, যা তাকে সারা জীবনের জন্য অর্ধমৃত ও আতঙ্কিত করে রাখে। আমরা হয়তো জানি অথবা জানি না; কিংবা জেনেও না জানার ভান করি—আঙুল তুলে চুপ করিয়ে দেই অভিযোগকারীকে, যা মানুষটাকে সারা জীবনের জন্য মানসিকভাবে পঙ্গু করে রাখে।
নানামুখী নদীর উপর দিয়ে বয়ে গেলেও এই বইয়ের উৎস, তেমনি তিক্ত এক গল্প। পাঠকের সামনে হয়তো খুলে যাবে স্মৃতির দরজা; না হলেও পাঠপরবর্তী অনুভূতিতে সে আগলে রাখবে তার নিকটজন ও স্বজনকে। চোখ-কান খোলা রাখবে, যাতে কোনো শিশু-কিশোরের জীবন তিক্ত না হয়ে ওঠে। এটাই পাঠকের কাছে নিবেদন—গুজারিশ।







উম্মে খালিদ –
বইটা যখন পড়া শুরু করেছিলাম খুব একটা ভালো লাগেনি।।শুধু মনে হচ্ছিল কেন কিনলাম কেন নিলাম।।
যাই হোক,পরে একটু গভীর মনোযোগেই পড়তে শুরু করলাম দেখি সামনে কী অপেক্ষা করছে।। পড়তে পড়তে থমকে গেলাম রাবিয়ার (গল্পের চরিত্র)বড় আপার মৃত্যুর ঘটনায়।। ওখানে গিয়ে মনে পরলো আমার বড় আপুর মৃত্যুর ঘটনা।।আর সামনে আগাতে পারছিলাম না।।খুব কষ্ট হচ্ছিল পড়তে।।পরে রেখে দিয়েছিলাম।। কিছু ক্ষণ পর মনকে শক্ত করে আবার পড়া শুরু করলাম।।
একটু গোলমাল লেগেছিল শুরুর দিকে একদিকে রাবিয়া (গল্পের চরিত্র)দের ঘরোয়া জীবন অন্যদিকে শেহনাজ,দিলনাজ ওদের কাহিনী।।সব মাথার উপর দিয়েই যাচ্ছিলো।।বুঝে উঠতে পারলাম না।।তাও পড়তে থাকলাম।। অবশ্যই কিছু না কিছু সংযোগ তো আছে দুই কাহিনীর মধ্যে।।যখন গিয়ে উপন্যাসের শেষ দিকে উপস্থিত হলাম,তখন ক্লিয়ার হলাম যে শেহনাজ রাবিয়ার নানি হন।।আর উপন্যাসটা এমন একটা বিষয় নিয়ে লেখা যে পুরোপুরি শেষ না করলে কখনোই এটার আগামাথা বুঝা সম্ভব না।।
আর এটা মূলত শিশুদের শৈশব নিয়ে লেখা একটা উপন্যাস।।একটা বাচ্চা কতটা নোংরা থাবার শিকার হয়ে দুনিয়া, দুনিয়ার মানুষ,দুনিয়াবি বাস্তবতা থেকে দূরে সরে যায় এই বিষয় নিয়েই মূলত উপন্যাসটা সাজানো হয়েছে।। একটা বাচ্চা যখন নিজের মনের কথা গুলো কারো সাথে শেয়ার করতে না পারে,যখন তাকে কেউ বুঝতে চায়না,না বুঝেই যখন তার উপর উল্টা পাল্টা দোষারোপ করতে থাকে।।তখন তার দুনিয়া এমনেই ক্ষীণ হয়ে আসে।সবার প্রতি তার ঘৃনা জন্মাতে থাকে।।একটা সময় সে সবার থেকে এতোটাই আলাদা হয়ে যায় যে,তার মনটা পাথরের মতো শক্ত হয়ে যায়।।।
এই উপন্যাসটা থেকে মূলত এটাই শিক্ষণীয় যে,,ছোটো থেকেই বাচ্চাদের একটু অধিক খেয়াল রাখা, বাচ্চারা যদি কারো কাছে যেতে দ্বিধাবোধ করে তার কারণ জানতে চাওয়া, বাচ্চাদের সাথে বন্ধুসুলভ আচরন করা।।আর তাদের কিছু মৌলিক শিক্ষা দেয়া যে,কোনটা ব্যাড টাচ,আর কোনটা গুড কাছ এগুলো শিখিয়ে দেয়া।।আর বাচ্চাদের অধিক কেয়ার করা।।
আমার রিভিউ লিখার কোনো অভিজ্ঞতা নেই।।আমি বইয়ের জগতে নতুন।।তবে আমি এই বইটা থেকে যতটা বুঝতে পেরেছি ততটাই শিখার চেষ্টা করেছি।।